Subscribe:

অলওয়েজ লেট

-হ্যালো, টুম্পা তুই কথায়? এক্ষুনি টিএসসিতে চলে আয়। দশ মিনিটের মধ্যে তাড়াতাড়ি। এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলল জুনায়েদ।
-জুনায়েদ ভাইয়া, আমি এখন আসতে পারব না ,আমার জরুরি কাজ আছে। টুম্পার প্রত্যুত্তর।
-তোর আবার জরুরি কাজ কি? খালি তো খাস আর ঘুমাস। পড়াশুনাও ঠিকমত করিস না।
-ভালো হবে না কিন্তু, জুনায়েদ ভাইয়া। আমি শুধু খাই আর ঘুমাই? পড়াশুনা না করেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছি?

-ঠিক আছে, তুই পড়াশুনা করিস, তোর মত ভালো মেয়ে সারা পৃথিবীতে আর নাই। এখন প্লিজ একটু তাড়াতাড়ি আয়।
-ঠিক আছে, তবে একটা শর্ত আছে।
-তোর একটা কেন? একশটা শর্ত মানতে রাজি আছি।
-একশটা মানতে হবে না। এখন শুধু একটা মানলেই হবে। আইসক্রিম খাওয়াতে হবে।
-ঠিক আছে খাওয়াব। তুই জলদি আয়।

টুম্পার বড় ভাই আকাশের বন্ধু জুনায়েদ। তারা দুজন একসাথে বড় হয়েছে, লেখাপরা করেছে। তার মা-বাবা জুনায়েদ কে নিজের ছেলের নত ভালবাসেন। ডিভি লটারি পেয়ে ছেলে আমেরিকা চলে যাওয়ার পর তারা জুনায়েদের মাঝে নিজেদের ছেলেকে খুজে পান। টুম্পা ক্যাম্পাসেই ছিল। আসতে দেরি হল না।
-ভাইয়া বললে না কি জন্যে ডেকেছ?
-চুপ কর। বেশি কথা বলিস না। নাকি আমার সাথে কোথাও যেতে সমস্যা আছে?
-সমস্যা নাই, কিন্তু তুমি নিজেই তো বড় একটা সমস্যা।
-কি বললি? কান ধর বলছি, কান ধর।
-এখন ধরলে লোকজন দেখবে। বরং যেখানে যাব, সেখানে গিয়ে ধরব।

দেড় ঘণ্টার মধ্যে অরা পদ্মার পাড়ে এক রিসোর্টে পৌঁছল। এত সুন্দর জায়গা আগে কখনও দেখেনি টুম্পা। চারিদিকে পদ্মার বিস্তৃত জলরাশি। সূর্যের আল পরে চিকচিক করছে চরের বালু। আনন্দে টুম্পা চিৎকার করে বলল-
-জুনায়েদ ভাইয়া এই দেখ কান ধরছি। এত সুন্দর জায়গায় কান ধরা সার্থক।
-কান ধরতে হবেনা। এখন বল, তোকে কেমন সারপ্রাইজ দিলাম?
-ইটস আ গ্রেট সারপ্রাইজ। ইউ আর সো সুইট।
-অনলি সুইট?
-নট অনলি সুইট , বাট অলসো চমচম।
-আবার ফাজলামি করা হচ্ছে?
-সরি, জুনায়েদ ভাইয়া।

সারাদিন আনন্দ আর উচ্ছাসে কাতল তাদের। কিন্তু যে জন্যে টুম্পাকে এখানে নিয়ে আসা, সে কথাটি আজও বলতে পারল না জুনায়েদ।
-জুনায়েদ ভাইয়া, কাল সকালে আমাদের বাসায় একটু আসতে পারবে?
-কেন?
-কাল তোমাকে এক জায়গায় নিয়ে যাব। ঠিক দশটায় বাসায় চলে আসবে। মনে থাকে যেন।
তুমিতো আবার অলওয়েজ লেট। লেট লতিফের মত, লেট জুনায়েদ।

সকাল দশটা দশে গিয়ে হাজির হল জুনায়েদ। দশ মিনিট দেরি করার জন্যে ঝাড়ি খেতে হল।(আসলে ঝাড়ি খাওয়ার জন্যেই লেট করেছে সে।)
-আজ সারাদিন রিকশায় করে ঘুরে বেড়াব।
-রিকশায় করে সারাদিন ঘোরার কি আছে?
-আমার ইচ্ছা হয়েছে তাই। আমার সাথে যেতে সমস্যা নাকি অন্য কার সাথে ডেটিং আছে? টিপ্পনি কাটল টুম্পা।
-সেই কপাল কি আর আমার আছে?সেই কপাল থাকলে কি আর শুধু শুধু সময় নষ্ট করি? বলেই মুছকি হাসি দিয়ে চোখ টিপ দিল জুনায়েদ।
আর যায় কোথায়?
-আমার সাথে কোথাও গেলে সময় নষ্ট হয়, না? ঠিক আছে , লাগবে না। তুমি রিকশা থেকে নামো তো, নামো।
-আরে বাবা! রাগিস কেন? একটু দুষ্টুমিও করতে পারব না! তোর মত সুন্দরীর পাশে বসে তো আমি ধন্য।
-ধন্য না, বন্য। একটু স্মার্ট হয়ে তো আসবে। গালভরা খোঁচা খোঁচা দাড়ি। কতদিন হয়েছে শেভ করো নাই? আয়নায় কোনদিন নিজের চেহারা দেখ?

জুনায়েদ মনে মনে ভাবল, আসলেই টুম্পা তার তুলনায় কত সুন্দরী একটা মেয়ে। তাইতো জুনায়েদ যতবারই চেষ্টা করেছে মনের কথা বলতে, তখনি কি জেন একটা হয়। সবকিছু গুবলেট হয়ে যায়। কিন্তু আজ সে বলবেই। তাকে পারতেই হবে।

-কি ব্যাপার,ভাইয়া, একেবারে স্ট্যাচু অব লিবার্টি হয়ে গেলে দেখি।
-ধুর!কি যে বলিস না।
-হও হও, তুমি মাঝে মাঝে হও। তখন তোমাকে দেখতে আমার কি যে ভালো লাগে......
-“তোমাকে দেখতে আমার কি যে ভালো লাগে” কথাটা জুনায়েদের শিরায় শিরায় আনন্দের বারতা বইয়ে দিল। তাহলে টুম্পাও কি তাকে ভালবাসে?ভাবতেই অদ্ভুত রকম ভালো লাগায় শিহরিত হল সে।
-অ্যাই রিকশাওয়ালা ভাই, রাখেন।
চমকে উঠল জুনায়েদ, পরমুহূর্তেই টুম্পার গলা তার কানে মধু ঢেলে দিল।
-চলোনা, কফি খাই।
-যো হুকুম, মহারানী।

তারা দুজনে কফিশপের শেষদিকের কোনার একটা টেবিলে বসলো।
-জুনায়েদ ভাইয়া, কি খাবে? নাকি শুধুই কফি?
-তুই কি আমাকে কফি খাওয়ানোর জন্যে এনেছিস?
-না, ভাইয়া। আমি তোমাকে কিছু বলতে এনেছি। কিন্তু তার আগে আমার একটা প্রশ্ন আছে।
-বল শুনি, কি এমন প্রশ্ন যা এখানে ছাড়া বলা যাচ্ছিল না?
-প্রশ্নটা হলো, তুমি কি আমাকে কিছু বলবে?
-নাহ, আমি আবার তোকে কি বলবো?
-ঠিক আছে, তোমার কিছুই বলতে হবেনা। আমিই বলি...
 .........................আই লাভ ইউ


কথাটা জুনায়েদের কাছে স্বপ্নের মত মনে হলো। বিশ্বাস করতে পারছে না, বাস্তবে ঘটছে কিনা।
-জুনায়েদ ভাইয়া, তুমি কিছু বলবে না?
-অ্যাঁ অ্যাঁ......আমি!
-হ্যাঁ, তুমিই তো। অন্য কাউকে বলেছি নাকি?
-টু...টুম্পা, আমিও তোকে অনেক ভালোবাসি। অনেক আগেই বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি। কারণ...... কারণ......
-কারণ, তুমি অলওয়েজ লেট। বলেই হেসে ফেলল টুম্পা।



-Aqua Marine

No comments:

Post a Comment