Subscribe:

শঙ্খচূড় - দ্বিতীয় পর্ব "ক"

শঙ্খচূড় প্রথম পর্বের পর.......

হাজী বাড়ি, খোলাপাড়া, পঞ্চগড়।
বিকেল বেলার শেষ ভাগে সূর্যটা রক্ত ঝড়াচ্ছে পশ্চিমের মাঠগুলোয়। আখ কেটে ফেলায় মাঠগুলো কেমন শূণ্য- খাঁ খাঁ করছে দিনের শেষ সময়টাতে। বিকেলের মক্তব শেষে ছোট ছোট ছেলে মেয়েগুলো কায়দা, সিফারা, কোরআন শরিফ বুকে জড়িয়ে বাড়ি ফিরছে। শুঁকনো বালুতে পা মাখিয়ে কেউ কেউ রাস্তায় ছুটছে। হাজী বাড়ির সীমানার বেড়ার বাহিরের কাঁচা রাস্তাটায় একটা মহিষের গাড়ি এসে থেমেছে। পুরো গাড়ি ভর্তি কাটা আখ।


সারা দিনে কেটে ফেলা আখগুলোকে এখন সুগার মিলে পাঠানো হবে। পাঠানোর আগে হাজী সাহেবের কাছে আধিয়াররা এসেছে তাদের পাওনা টাকা নিতে। টাকা নিয়ে সুগার মিলে দিয়ে আসবে হাজী সাহেবের নিজের লোক।
বাড়ির সীমানার ভেতরে ছোট সুপারি বাগান, তার একপাশে আনারসের ঝোপ। বাড়িটা বিরাট বড়, অর্ধেক পাকা বাড়ি, পাঁচ ফুটের মত পাঁকা দেয়াল, তার ওপরে টিন আর বেড়ার অংশ। বাড়ির আরেক অংশ পুরোটাই পাঁকা। কেবল ছাদ টিনের। বাড়ির সামনেই ডানপাশে বিশাল একটা নারিকেল গাছ। ওটার নিচে একটা ঘাট বাঁধানো কুয়া। গোসলখানা হিসেবে ব্যবহার করা হয় এটা। বিরাট একটা জাম্বুরা গাছও আছে ওটার পাশেই। উঠানে গরু, ঘোড়াদের খাবার জন্য এক কোনায় একটা বড় সিমেন্টের গামলা রাখা, মাটি দিয়ে লেপে দেয়া উঠানের সঙ্গে। ঘোড়ার আস্তাবলটা বাড়ির পেছন দিকে। গোয়াল ঘর আর আস্তাবল পাশাপাশি। দুটো গাভী আছে। প্রত্যেক দিন রজব আলী নামে এক বুড়ো লোক এসে দুধ দুইয়ে দিয়ে যায়। আস্তাবলে থাকে দুইটা ঘোড়া। একটা হাজী খামিরুদ্দিনের ঘোড়া, অন্যটা তাঁর ছোট ভাই হাজী মেহের বকসের। হাজী মেহের বকস বাড়িতেই থাকেন বেশির ভাগ সময়। জমী জমা সহ অন্যান্য কাজ কর্ম দেখা শোনা করেন। কোথাও যেতে হলে তাঁর ঘোড়াটায় চড়ে যান। ঘোড়া দুটোর রঙ সাদা। ছোট থেকে পেলে পুষে বড় করেছেন দুই ভাই। অনেক শখের ঘোড়া। নিজেরাই গোসল করান, খাবার দেন। অন্য কাউকেই ধরতে দেন না।
সুপারি গাছের বাগানটার ঠিক মাঝামাঝি জায়গায় বাঁশের বেড়া দেয়া হাটু সমান উঁচু করে, ঘিরে রেখেছে অনেক পুরনো একটা কুয়াকে। ব্যবহার করা হয় না বলতে গেলে। পানি অনেক নিচে নেমে গেছে ওটার। তাই নতুন কুয়া করা হয়েছে ঘাট বাধিয়ে। পুরনো এই কুয়াটার ভেতরটা নতুনটার মত সিমেন্টের বিং দেয়া না, তাই ফার্ণ, লতা পাতা, আগাছা জন্মে মুখটা ভরিয়ে ফেলেছে অনেকটাই। ভাল করে উঁকি দিলে ভেতরের এবরো খেবড়ো কুয়াটা নজরে আসে। সূর্যটা ঠিক মাথার ওপরে থাকলে পানিও দেখা যায় হঠাৎ হঠাৎ নিচে।
হাজী বাড়ির লোক সংখ্যা নেহাত কম না। দুই হাজী- খামির উদ্দিন আহমদ ও মেহের বকস এর মা আয়েশা বেগম এই পরিবারের বেঁচে থাকা সর্ব জেষ্ঠ্য মানুষ। চলতে পারেন না। দক্ষিণ দিকের একটা ঘরে সারাক্ষণ বিছানায় শুয়ে থাকেন আর তজবি পড়েন। চোখে ঠিক মত দেখতে পারেন না, ছানি পড়েছে চোখে। শুয়ে থাকতে থাকতে পিঠে, কাঁধে ঘাঁ হয়ে গেছে। খুব কম কথা বলেন। তাঁর বয়স এই শীতে ঊনাশিতে পড়ল। মাঝে মাঝেই হাঁফানির টানে ভোগেন। বাড়ির সবাই তখন ভাবে এবারেই বুঝি যাবেন- কিন্তু ডাক্তার, কবিরাজদের অবাক করে দিয়ে আবার ঠিক হয়ে যান।
হাজী খামিরুদ্দিনের মোট তিন স্ত্রী। বড় জনের নাম রহীমা খাতুন। পশ্চিমের গহেলা কান্তমণি গ্রামের মেয়ে। তিনটা মৃত সন্তানের জন্ম দেয়ার পর খায়রুল আনামকে জন্ম দিয়েছেন। তারপর জন্ম দিয়েছেন একটা মেয়েকে, আনোয়ারা নাম। আনোয়ারার বিয়ে হয়ে গেছে। ঢাকায় থাকে। রহীমা খাতুন এ পরিবারের বড় বৌ। খুব শান্ত ধরণের মানুষ তিনি, স্বামী ভক্ত।
মেজ বৌ হলেন মোছাম্মদ আফেলা খাতুন, তেপুগোড়িয়া গ্রামের মেয়ে। তাঁর ঘরে কেবল দুই মেয়ে। শাহীদা , রশীদা- দু জনেরই বিয়ে হয়ে গেছে। আফেলা খাতুন প্রচুর কথা বলেন। কথা বলা শুরু করলে দম শেষ হবার আগ পর্যন্ত কথা বলে যান। বেশি কথা বলার কারণে খামিরুদ্দিন প্রায়ই ধমক দেন তাঁকে। তবুও লাভ হয় না।
ছোট বৌয়ের নাম মোছাম্মদ জয়গুন্নেছা। দর্জিপাড়া গ্রামের মেয়ে। ভীষণ ধার্মীক। তাঁর কেবল একটাই ছেলে। আসগর হোসেন দুলাল। আসগর এখনো ছোট। মাত্র আট বছর বয়স। মাদ্রাসায় পড়ে।
এবারে আসা যাক হাজী মেহের বকসের পরিবারে। ছোট সংসার তাঁর। স্ত্রী আর দুই ছেলে। স্ত্রীর নাম আছিয়া খাতুন, ছেলে দুটো হল মান্নান আর আবুল কালাম। মান্নান বড়, বয়স সতেরো হবে হবে করছে। আবুল কালামের চৌদ্দ হবে আসছে বৈশাখে। আয়েশা বেগমের নাতি নাতনিদের মাঝে বড় হচ্ছে ডি.এম. খায়রুল আনাম। উনিশ বছরে পা দিল সে। সবে ম্যাট্রিক পাস করল। আপাতত বাড়িতেই আছে, কলেজে ভর্তি হয়নি এখনো।
বাড়ির অন্যান্য মানুষগুলো হল কাজের মেয়ে ফরিদা। আয়েশা বেগমের দেখাশোনা করার জন্য রয়েছে মহসিনা। কামলার কাজ করে দু জন- নজল আলী আর ফযল আলী, দুই ভাই। এছাড়াও মাঝে মাঝে আধিয়ারদের কেউ কেউ এসে এখানে থেকে কাজ করে দিয়ে যায়। তখন রাতে থাকে ওরা। তাজলের মা তাদের একজন। মাঝ গ্রামে থাকে যদিও, কাজের চাপ বেশি হলে তাজলের মা এ বাড়িতে এসে কাজ করে দিয়ে যায়। এছাড়া সুলেমান তো আছেই।
মোট মাট মিলিয়ে এই হল হাজী পরিবার। যদিও এই পরিবারের বৃত্ত এত ছোট নয়, তবু জটিলতা এড়োতে মূল পারিবারিক বৃত্তটুকুর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলাম। পরবর্তীতে কাহিনীর প্রয়োজনে বাকিদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া হবে যথা সময়ে।

উঠানের শুঁকনো পাতা ঝাড়ু দিয়ে জমা করছে ফরিদা। শাড়ির আঁচলটা কোমরে প্যাঁচিয়ে নিয়েছে। সূর্য ডুবি ডুবি করছে। ঝাড়ু দিতে দিতে গুনগুন করে গান করছে। মেহের বকস বাড়িতে নেই, বাজারে গেছে। তাই গান ধরার সাহস পেয়েছে। নইলে দুই ভাইয়ের একজনও যদি থাকতো এক হাত ঘোমটা ফেলে হাটতো।
কুয়াপাড়ের দিকে যাচ্ছিল জয়গুন্নেছা। ফরিদাকে দেখে কড়া গলায় বলে উঠলেন, “বেটির রঙ হইছে নাকি? মাগরীবের আগে কাপড় চোপড়ের ঠিক নাই গান ধরছো ক্যান? মাথায় কাপড় দেও!”
ঝাড়ুটা রাগ দেখিয়ে ফেলে আঁচল খুলে মাথায় ঘোমটা দিল ফরিদা, “আমি করলেই দোষ খালি। বাকি মাইনষ্যে করলে আর কিছু হয় না!” ময়লার ডালায় পাতাগুলো তুলে জমাতে লাগল।
জয়গুন্নেছা বিরক্ত হলেন মেয়েটার ওপর। এত বাড়তি কথা বলে ক্যান? মুখে মুখে কথা বলার অভ্যাস আছে। কোন দিন যে থাপ্পর মেরে বসেন! কুয়াপাড়ে গেলেন। ওযু করবেন। নামাযের সময় হয়ে এলো।
হাজী খামিরুদ্দিনের আজ ফেরার কথা। এখনো ফেরেননি। চিন্তা হচ্ছে জয়গুন্নেছার। লোকটা কোথায় কোথায় যে যায়- কিছুই জানেন না। সারাক্ষণ চিন্তা হয়। শত্রুর কোনো অভাব নেই খামিরুদ্দিনের। কখন, কে যে কি করে বসে। এমনিতেই খায়রুল আনামকে অনেকবার মারার চেষ্টা করেছে শত্রুপক্ষের লোক, খামির উদ্দিনকে করবে না- বিচিত্র কি?
দু রাকাত নফল নাময পড়ে দোয়া করতে হবে যাতে হাজী সাহেব সহি সালামতে ফিরে আসেন। এ সংসারে দুশ্চিন্তার কি কোনো শেষ আছে?
নজল আলী সেই কোন দুপুরে হাজী সাহেবের ঘোড়া নিয়ে ঘাটে গেছে, তিনি ফিরলে ঘোড়ায় চড়ে বাড়ি আসবেন। এখনো নজল আলী কিংবা তাঁর দেখা নাই।
বালতি ফেলে পানি টেনে তুললেন। ওযু করতে করতেই মাগরীবের আযান শুনলেন। মসজিদটা মাটির আর বেড়ার, পাঁকা না। স্থায়ী কোনো ইমামও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একেক বেলা একেক বাড়ির লোক আযান দেয়, নামায পড়ায়। হাজী সাহেব ইমাম খুঁজে যাচ্ছেন। পেলে মসজিদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতেন।
ওযু শেষে উঠে দাঁড়াতেই ঘোড়ার হ্রেষা ধ্বনি শুনলেন জয়গুন্নেছা। চিন্তার ছাপটা দূর হয়ে গেল মুখ থেকে। হাজী খামিরুদ্দিন ফিরেছেন। তাড়াতাড়ি গিয়ে দাঁড়াতে হবে তাঁর কাছে, বাকি দুই বৌও বারিয়ে এসেছে স্বামীকে দেখতে। বাড়িতে ঢুকে হাজী সাহেবের তিন স্ত্রীকেই সামনে দেখতে পাওয়া চাই, না হলে রাগ করেন তিনি। মাথায় ভাল করে কাপড় দিয়ে হাসি মুখে এগিয়ে গেলেন উঠানে জয়গুন্নেছা। চার রাকাত নফল নামায পড়বেন মনে মনে ঠিক করলেন।
গেট দিয়ে সাদা ঘোড়ায় চেপে ঢুকলেন হাজী খামিরুদ্দিন আহমদ। গোধূলির আলোতে আবছা বোঝা যাচ্ছে তিন স্ত্রীকে এক সঙ্গে দেখতে পেয়ে দূর্লোভ একটা হাসি ফুটে উঠেছে হাজী সাহেবের মুখে। ডান হাতে ছড়িটা ধরে রেখেছেন, “তোমরা ভাল আছো তো?”
তিন জনেই নীরবে মাথা ঝাঁকালেন। হাজী সাহেবের পেছন পেছন সুলেমান ঢুকল। কাঁধে নতুন কেনা একটা সাইকেল, তার পেছন পেছন নজল আলী। অবাক হয়ে সাইকেলটা দেখছে সে।
“খায়রুল  বেটার জন্য হারকিউলিস সাইকেল কিনে ফেললাম। ভাল করছি না?” হাসলেন তিনি, “আমি ঘোড়ায় চড়ি, সে চড়বে সাইকেলে!”


গোসল সেরে খেতে বসেছেন হাজী খামিরুদ্দিন। বারান্দায় মাদুর বিছিয়ে বসেছেন। হারিকেন আর কুপি জ্বলছে। হাজী সাহেবের তিন স্ত্রীর তিন রকম কাজ। কেউ রান্না করবে, কেউ বেড়ে খাওয়াবে; কেউ গোসলের তেল- সাবান এগিয়ে দেবে তো কেউ পান বানিয়ে দেবে। তিন জনের সাথে তাঁর অদ্ভূত সমঝোতা। কেউ কারো কাজে বাধাও দেবে না, আবার সাহায্যও করবে না। স্বামীর জন্য তাঁদের কাজ করাটুকুকে প্রত্যেকেই খুব সতর্কতার সাথে নেন। হাজী সাহেব খেয়ালি মানুষ- কিসে ভুল পেয়ে যে মন খারাপ করেন আর কিসে যে রেগে বসেন, সে ভয়েই অস্থির থাকে সবাই।
এখন তাঁর খাবার বেড়ে দিচ্ছে আফেলা খাতুন।
“খায়রুল বেটা ফিরেছে বাড়িতে?”
“নাহ। সেই দুপুর বেলা যে মাঝ গ্রামের শমসের আলীর সাথে বার হয়ে গেল, এখনো ফেরে নাই।”
ডাল দিয়ে ভাত মাখাতে মাখাতে বারান্দায় রাখা সাইকেলটার দিকে এক নজর তাকিয়ে আবার প্লেটের দিকে ফিরলেন, “ছেলেটা কোথায় কোথায় যে ঘুরে বেড়ায়। চিন্তা লাগে। ক্ষতি করার মানুষের তো অভাব নাই। তাকে একটু বুঝাবা।”
“আমি বললে কি শুনবে? বড় আপার কথাই শোনে না।” আফেলা খাতুন মুখ বাঁকিয়ে বললেন। হাত পাখা নিয়ে বাতাস করতে লাগলেন স্বামীকে।
“এই শীতের মধ্যে বারাস করবা না। কুপিও নিভা যায়।” ঝাঁঝিয়ে উঠলেন।
সাথে সাথে পাখা নয়াড়া বন্ধ হয়ে গেল।
ভাত আঙ্গুল দিয়ে রাগের চোটে কচলাতে লাগলেন, “রহীমা? রহীমা?” বড় স্ত্রীকে ডাকলেন।
পাশের ঘরেই ছিলেন বড় বৌ। ছুটে এলেন, “জী? আমাকে ডাকছেন?”
“খায়রুল আনামকে বলবা তিড়িং বিড়িং করে এদিক সেদিক না বেড়াইতে। শত্রুর অভাব নাই। সুলতান বেটায় তো পারলে দা দিয়া গলা নামায় আমাদের। ওরে সাবধান হতে বলবা। মাগরীবের পর বাড়ির বাহিরে এতক্ষণ কি করে?” ধমকের সুরে বললেন।
“জী আচ্ছা বলবো।” ভয়ে ভয়ে বললেন।
কিছুক্ষণ নীরবে খাওয়া চলল।
“ভাল কথা, মেহের ফেরে নাই?”
“না। বাজারে গেছে কাজে। আসতে রাত হবে বলেছে।” রহীমা বললেন।
“ও।” আর কথা বললেন না তেমন। খেতে লাগলেন।
কুপির আগুণের কাছে একটা ফড়িং লাফাচ্ছে অনেক্ষণ। আগুণের বাড়ি খেয়ে হাজী সাহেবের খাবারের প্লেটে পড়ল। তিনি সেটাকে দেখে হাত ধুয়ে ফেললেন। কথা বললেন না একটাও। উঠে গেলেন।
আফেলা খাতুন বিড়বিড় করে গাল দিলেন, “শালার বেটা পোঁকায় মরার জাগা পাস না, মরবি মর। হাজী সাবের পাতেই মরল!”
কেউ খেয়াল করল না কথাটা।

আয়েশা বেগমের ঘরে মিট মিট করে হারিকেন জ্বলছিল। মহসিনা মেঝেতে জায়নামায বিছিয়ে কোরআন শরিফ পড়ছে অনুচ্চ স্বরে। হারিকেনটা তার সামনে রাখা। বিছানাটা ঘরের এক কোনায়। মশারি টানানো। ভেতরে আয়েশা বেগম শুয়ে শুয়ে তজবী পড়ছেন। দরজা খোলা ছিল। হাজী খামিরুদ্দিন সাহেব দরজায় দাঁড়িয়ে ভেতরে তাকালেন। মহসিনাকে কোরআন পড়তে দেখে ভেতরে আসার জন্য আয়েশা বেগমের অনুমতি চাইলেন না। চলে আসলেন ভেতরে নিঃসব্দে। মশারির কাছে এসে সালাম দিলেন, “আসসালামুয়ালাইকুম আম্মা, জাগে আছেন আপনে?”
“ওয়ালাইকুম সালাম, কে? খামির? বসো বাবা। কখন আসলা?” অস্পষ্ট ঘড়ঘড়ে গলায় বললেন আয়েশা বেগম। ইদানীং কথা বলাতে সমস্যা হচ্ছে তাঁর।
খামির উদ্দিন মশারি উঠিয়ে ভেতরে পা ছুঁয়ে সালাম করে বসলেন মায়ের পাশে। আয়েশা বেগমের সাদা চুলগুলোয় হাত দিয়ে ঠিক করে দিলেন, মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন, “আপনার শরীর কেমন এখন?”
“এইতো, আল্লাহ পাক যেমন রাখছেন। কখন আসলা?”
“মাগরীবের সময়। আপনার খাওয়া হয়েছে?”
“নাহ। এত আগে খাইনা। এশারের আরো পরে খাবো। যে কাজে দেবীগঞ্জে গেছিলা- কাজ হয়েছে বাবা?”
“হুম। মোটামুটি। আসার সময় খায়রুলের জন্য একটা হারকিউলিস সাইকেল কিনা নিয়াসছি। ছেলেটা পরীক্ষায় এত ভাল ফলাফল করল, কিছু না দিলে কেমন হয়।”
“ভাল করছো। তাকে একটু বুঝায়ে বলবা আধিয়ারদের সাথে যাতে অত না মিশে। তারা আর আমরা এক জাত না। তারা আমাদের জমিতে বাড়ি করে থাকে। নিজের জায়গা বুঝে চলতে বলবা। লোকে নানান কথা বলতেছে। আধিয়ারদের সাথে কম চলতে বলবা। মানুষের কথা বিষের চায়ে খারাপ জিনিস।”
হাজী খামিরুদ্দিন মাথা ঝাঁকালেন, “জী আচ্ছা বলবো।”
“আরেকটা কথা, তার বিবাহ নিয়া কিছু ভাবছো? উনিশ বছর বয়স তো হয়ে গেল। বিবাহ দেয়ার চিন্তা নেও মাথায়। শয়তানে এই বয়সে নানান ফাঁন্দে ফালাইতে চায়।”
“দেখি। ভাবে দেখি। সময় তো আর চলে যাইতেছে না।”
“সময় বসেও থাকতেছে না। খায়রুলের মনে উড়ু উড়ু ভাব। বয়সটা খারাপ। বিবাহ দিয়া তারে সংসারে বাঁধে ফেলো। তাতে সংসারের উপকার, বংশেরও উপকার।” গলা এক ধাপ উঁচিয়ে বললেন আয়েশা বেগম।
“জী আচ্ছা।”
“কন্যা দেখার বযবস্থা কর। কম বয়সী মেয়ে ঘরে আনবা। ছোট মেয়ে মনে কাঁচা, স্বামী যেমনে ইচ্ছা গড়ে নিতে পারবে। মেয়ে বড় হলে সমস্যা। ভাল ঘরের মেয়ের খোঁজ করবা। বংশ মর্যাদা সমান হওয়া প্রয়োজন। না হলে সারা জীবন এক পক্ষ ছোট হয়া থাকবে আরেক পক্ষের কাছে।”
“জী আচ্ছা।....... আম্মা আপনার জন্য ভাল হরলিক্স নিয়া আসছি। নতুন জিনিস। খুব ভাল স্বাস্থ্যের জন্য। মহসিনা গরম পানি দিয়া বানায়ে দিবে।”
“খামির উদ্দিন?” তীক্ষ্ণ গলায় বললেন।
“জী আম্মা?”
“আমার কথা শেষ হয় নাই। আমার কথার মাঝখানে কথা বলবা না।”
“জী আচ্ছা।”
“খায়রুলকে বোঝাবা এখন থেকেই যেন বাড়ি, জমি জমা সব কিছু বুঝে নিতে শুরু করে। তার সব জানা প্রয়োজন। শত্রুর যে কোনো অভাব নাই, তার বোঝা দরকার। তার মনের মধ্যে রঙিন নেশার ভাব। পাখি মারা বন্দুক নিয়া সারা দিন রাত মাচায় বসে থাকে আর বই পড়ে। আমার কানে সব আসে। তারে বলবা জগৎ সংসার বন্দুক হাতে মাচায় বসে আর বই পড়ে বোঝা সম্ভব না। তারে বাস্তব বাদী হতে বলবা। আমার কথা শেষ। তুমি এখন আসতে পারো। আমি তোমার আব্বার নামে এক লক্ষবার সূরা ইখলাস বকশিস দিতাছি। বিরক্ত করবা না।”
“জী আচ্ছা।” উঠে দাঁড়ালেন হাজী সাহেব। সালাম দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। মায়ের সঙ্গে কথা বলতে আজো ভয় পান তিনি। কঠোর শাসনে মানুষ করেছেন তাঁদের দুই ভাইকে আয়েশা বেগম। সেটার ছাঁপ এই পঞ্চান্ন বছরের মাথাতেও এসে প্রকট হয়ে রয়েছে।


আকাশে বিশাল চাঁদ উঠেছে। মাঝে মাঝে মেঘের আড়ালে ঢেকে যাচ্ছে, আবার বেরিয়ে আসছে। চারপাশে কুয়াশার ঘন পর্দা। বিশাল ঝিলের পানিতে আকাশের চাঁদটা তরল রূপা হয়ে যেন গলে পড়ছে। ঝিলের কিনারেই অনেক বড় আম গাছ। ডাল পালা মেলে যেন আকাশটাকে ছোঁবার জন্য বুক চাতিয়ে উঠে গেছে গাছটা। কুয়াশা ঝুলে রয়েছে ঝিল আর আম গাছটার ওপরে। মাচাটা ঝিলের ওপরে, ঝিলের পানিতে ছায়া পড়েছে মাচাটার। দড়ির মইটা গুটিয়ে ওপরে তুলে রাখা হয়েছে। মাচার চার কোনায় চারটা লাঠি, মশারি লাগানোর জন্য। যদিও এখনো লাগানো হয়নি। একটা চাঁদর বেছানো। একটা বালিশ আর কাঁথাও রাখা। শীতের দিন বলে ঝিলে অসংখ্য বালিহাঁস এসে জড়ো হয়েছে। খায়রুল আনাম এসেছে পাখি মারার জন্য। সঙ্গে এয়ার গান, তার বাবা হাজী খামিরুদ্দিনের জিনিস। ছররা নিয়ে এসেছে। পাখি বেশি জমা হলে গুলি করবে। শমসেরের সঙ্গে এসেছে। শমসের গেছে মুড়ি আর গুড় আনতে। রাতে থাকবে শমসের। খায়রুল আনাম চলে যাবে বাড়িতে বন্দুক নিয়ে। আবার ভোর বেলা আসবে। আজ হাজী খামিরুদ্দিনের আসার কথা, এসে গেছেন কিনা এখনো জানে না সে। তাই চলে যাবে। না হলে আজকের রাতটা থাকতো। প্রায়ই থাকে মাচায়। ভাল লাগে খুব।
এখন মাচায় বসে গাছের ডালে হেলান দিয়ে হারিকেন জ্বালিয়ে বই পড়ছে সে। গায়ে মোটা একটা ভারী শাল, মাথায় উলের টুপি। শীতে কাঁপছে, কাঁপা গলায় কবিতা আবৃতি করছে –

“....... I sift the snow on the mountains below,
And their great pines groan aghast;
And all the night ‘tis my pillow white,
While I sleep in the arms of the blast……..”

P.B. Shelley এর The Cloud কবিতাটা এ নিয়ে তৃতীয় বারের মত পড়ছে মাচায় বসে। বোধ হয় আজ মুখস্ত করেই উঠবে। পড়তে পড়তে কুয়াশা ঝুলে থাকা ঝিলটার দিকে তাকাল। উড়ে বেড়াচ্ছে কুয়াশাগুলো, চাঁদের আলোয় অসম্ভব সুন্দর লাগছে ঝিলটা। পাখিগুলো এই শীতের মধ্যে পানিতে নেমে খেলা করছে। মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে রইল সে। কবিতার কথা কয়েক মুহূর্তের জন্য ভুলে গেল।
ডালপালার ফাঁক দিয়ে চাঁদের আলো আসছে খায়রুল আনামের গায়ে। ছেঁড়া ছেঁড়া চাঁদের আলো। তার মাঝ দিয়ে কুয়াশা বয়ে যাচ্ছে, চাঁদের আলো আর কুয়াশা মিলে বিচিত্র নীলচে একটা আলো তৈরি করছে। এক ভাবে তাকিয়ে থাকা যায় না। চোখ বন্ধ করলেই মনে হয় অন্য এক ভূবনে চলে এসেছি। খায়রুল আনাম চোখ বন্ধ করে দু’হাত দু’দিকে প্রসারিত করল। যেন চাঁদের আলোয় ভেসে যাবে এখনি। বিড়বিড় করে বলল –

“জগতের এ প্রেম ছাড়িলাম সখি,
তোমারে লভিতে নিঃসঙ্গ চাঁদের ঝাঁঝড়া বুলেটে
সহস্রবার প্রাণের বিসর্জন দিলেম –
             তোমার আলোক সমুদ্রে........”

“খায়রুল ভাই! হাজী সাহেব চলে আসছেন। আপনি এক্ষণি রওয়ানা দেন। নাইলে খবর আছে।”
চমকে উঠলো খায়রুল আনাম। বাবাকে বাঘের মত ভয় করে। ভীত গলায় বলল, “আব্বা আমাকে খুঁজছেন?”
“খুঁজছেন মানে! তিনি আপনার জন্য সাইকেল কিনে আনছেন। আর আপনি নাই। জানেন তো তাঁর রাগ কেমন! আসেন। আপনারে দিয়াসি। নামেন নামেন।”
“সাইকেল! কি বলো! সত্যি নাকি?” মই নামাতে নামাতে বলল।
“হ্যাঁ। দেখে আসলাম। হারকিউলিস সাইকেল। সুন্দর জিনিস।”
মনে মনে দারুণ খুশি হল খায়রুল আনাম। খানিকটা ভীত হলো হাজী সাহেবের ধমক খেতে হবে আজ। না জিজ্ঞেস করে তাঁর বন্দুক নিয়ে এসেছে সে। বন্দুক আর ছররা হাতে তাড়াতাড়ি নামল, বই নিতে ভুলে গেল, “চল।” টুপিটা ঠিক করল।
চাঁদের আলোয় ঝিলের পাশ দিয়ে হাজী বাড়ির দিকে হাটতে লাগল ওরা দুজন।

আজ জয়গুন্নেছার ঘরে শুয়েছেন হাজী খামিরুদ্দিন। দীর্ঘ ভ্রমন ক্লান্তি চেপে ধরেছে তাঁকে। চেয়েছিলেন এশারের নামাযটা মসজিদে গিয়ে পড়বেন। ভাল লাগছিল না বলে ঘরেই পড়ে ফেলেছেন। শুয়ে শুয়ে হুকো টানছেন। জয়গুন্নেছা তাঁর পাশে বসে আছেন।
“মেহের এখনো ফেরে নাই?” স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন।
“না। কাজ আছে বলে তাঁর। আসতে দেরি হবে।”
“ও। দুলাল কি করে? তারে দেখতেছি না যে?”
“ওর পড়ার ঘরে পড়তেছে। সামনে পরীক্ষা আছে।”
“ওর মাদ্রাসার হুজুর ঠিক মত বাসায় এসে পড়ায় যায় তো?”
“জী, প্রত্যেক দিন বিকালে আসে পড়ায় যায়।........ পান খাবেন?”
“দেও একটা। চুন দিবা না। মুখ জ্বলে।” অন্যমনস্ক হয়ে বললেন।
“আপনার শরীর ভাল তো? আসার পর থেকেই দেখতেছি কেমন যেন হয়া আছেন।” জয়গুন্নেছা পান বানাতে বানাতে বললেন।
“নাহ। আমি ঠিকই আছি। লম্বা ভ্রমণ করায় ক্লান্ত। ঘুমালে ঠিক হয়ে যাবো। তুমি ভাবিও না। দুলাল কি রাতের খাবার খাইছে?”
“নাহ। খায়রুল আসুক। এক সাথে খাবে দুইজনে। বড় ভাইরে ছাড়া সে আবার খাইতে বসে না।” গম্ভীর মুখে বললেন।
“ভালই তো। বড় ভাইয়ের জন্য টান থাকা ভাল। ভবিষ্যতে মাথার ওপর ছাদ শক্ত হবে।” তন্দ্রা অনুভব করছেন তিনি।
জয়গুন্নেছা জবাব দিলেন না। তাঁর সারাক্ষণ মনে হয় হাজী সাহেব খায়রুল আনামের প্রতি বেশি স্নেহ দেখান, দুলালের প্রতি দেখান না।
বারান্দায় রাখা সাইকেলটার বেলে টুনটুন করে শব্দ হতেই তন্দ্রা টুঁটে গেল হাজী খামিরুদ্দিনের, “কে? বারান্দায় কে আসলো আবার? সাইকেল ধরছে মনে হয়। একটু দেখো তো জয়গুন কে আসছে?”
জয়গুন্নেছা নেমে গেলেন বিছানা থেকে, জানালা দিয়ে বারান্দায় তাকালেন, “খায়রুল আসছে। সাইকেলটা ধরে দেখতেছে।” স্বামীর দিকে না তাকিয়ে বললেন।
সাথে সাথে উঠে বসলেন হাজী সাহেব। ফিরে তাকালেন জয়গুন্নেছা, “ওমা, উঠে পড়লেন ক্যান?”
জবাব দিলেন না তিনি। বিছানা থেকে নেমে দরজা খুলে বারান্দায় বেরিয়ে এলেন। ইংরেজী “এল (L)” আকৃতির বারান্দা। খায়রুল আনাম সামনের অংশে দেয়ালে ঠেশ দিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা সাইকেলটা আবছা অন্ধকারে ধরে দেখছে।
হাজী খামিরুদ্দিন যে বারান্দায় বেরিয়ে এসেছেন খেয়াল করেনি সে। হাজী সাহেব ওর দিকে এগিয়ে গেলেন, “কখন আসলা খায়রুল আনাম?” গম্ভীর গলায় বলে উঠলেন।
সাথে সাথে চমকে উঠল খায়রুল। শমসের বারান্দার শেষ মাথায় নিচে দাঁড়িয়ে ছিল। হাজী সাহেবকে দেখে ওখান থেকেই দৌড় মারল।
শব্দ শুনে সেদিকে তাকালেন, “কে পালাইলো ওইটা?”
“আ-আব্বা ওটা শমসের। আমার সাথে আসছিল।” ভয়ে ভয়ে বলল খায়রুল।
“তাহলে এইভাবে দৌড় দিল ক্যান?” ছেলের দিকে ফিরিলেন, “শুনলাম পাখি মারে বেড়াইতেছো ইদানীং। কথাটা কি ঠিক?”
মুখ নিচু করে রাখলো সে।
“আমাকে জিজ্ঞাস না করে আমার বন্দুক, ছররা- এসবে হাত দেও কোন সাহসে?” ধমকের স্বরে বললেন।
খায়রুল মাটির দিকে তাকিয়ে চুপ হয়ে আছে। কথা বলার সাহস নেই।
“ভবিষ্যতে আমার অনুমতি ছাড়া যেন হাত দিতে না দেখি। বেশি বড় হও নাই। মার ধোর করি না বলে ভাবে বসিও না যে বড় হয়ে গেছো।” কড়া গলায় বললেন।
মাথা নিচু করে রেখেছে খায়রুল আনাম। কয়েক মিনিট কেটে গেল। তারপর ছেলের দিকে সাইকেলের তালার চাবি এগিয়ে দিলেন, “ধরো বেটা, পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করেছো- তাই সাইকেলটা তোমার জন্য কিনে আনলাম। ভবিষ্যতে আরো ভালো ফলাফল করলে আরো ভালো কিছু পাবা। এখন চালায় দেখো।”
কাঁপা হাতে চাবিটা নিল খায়রুল। বাবার দিকে তাকানোর সাহস হচ্ছে না। যদি তাকাত তাহলে দেখতে পেত হাজী সাহেবের গম্ভীর মুখে সূক্ষ্ম একটা হাসি ফুটে উঠেছে।
সাইকেলের তালা খুলতে খুলতে অনেক সময় লাগাল সে। বাবা কাছে দাঁড়িয়ে থাকায় হাত কাঁপছে, এই প্রচন্ড শীতের মধ্যেই দরদর করে ঘামছে। দুলাল তার ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে। বড় ভাইয়ের কাছে গিয়ে দাঁড়াল, “বড় ভাই, অনেক সুন্দর সাইকেলটা।” উজ্জ্বল মুখে বলল বড় ভাইকে।
তালা খুলে উঠানে নামালো সাইকেলটা দুই ভাই মিলে। খায়রুল আনাম হেসে দুলালকে ওটার সিটে বসিয়ে দিল, হাতে করে করে ঠেলে উঠানে ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়াতে লাগল ছোট ভাইকে। দুলাল মজা পেয়ে বেল বাজাচ্ছে টিনটিন করে।
সব ঘর থেকে একে একে রহীমা খাতুন, আফেলা, জয়গুন্নেছা, ফরিদা, মহসিনা সহ বাকিরা বেরিয়ে এল বারান্দায়। চাঁদের আলোয় দুই ভাইয়ের সাইকেল চালানো দেখছে হাসি মুখে। খায়রুল আনাম সাইকেল চালাতে পারে না বলে হ্যান্ডেল ধরে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে, সিটে বসে প্যাডেল পর্যন্ত পা দেয়ার চেষ্টা করছে দুলাল, পারছে না। উল্টো হাসছে আপনা আপনি।
বারান্দায় আধো অন্ধকারে দাঁড়িয়ে মিটিমিটি হাসছেন হাজী খামিরুদ্দিন। দুই ছেলের এমন কান্ড এভাবে কখনো দেখবেন ভেবেছিলেন?
হাজী মেহের বকস’ও এসে পৌছালেন বাজারের জিনিসপত্র নিয়ে ঘোড়ায় চড়ে। উঠানে ঢুকেই খায়রুল আনাম আর দুলালের খেলা দেখে হেসে উঠলেন। খানিক বাদে দেখা গেল মেহের বকসের ছেলে আবুল কালামও এসে যোগ হয়েছে সাইকেল নিয়ে খেলতে। মান্নান বারান্দায় দাঁড়িয়ে হাসছে ওদের কান্ড দেখে।
কেবল আয়েশা বেগম তাঁর ঘরে শুয়ে বিরক্ত মুখে বলতে লাগলেন, “বাহিরে এত হাসাহাসি ক্যান? বেশি হাসি ভাল না। কম হাসতে পারে না? হইছে কি একেকটার? শয়তানে ভর করছে নাকি?” গজগজ করতে লাগলেন অন্ধকারে শুয়ে।


(চলবে...)

Nithor Shrabon Shihab

No comments:

Post a Comment